তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: হায়েজ (ঋতুস্রাব) | উপ-অধ্যায়: ইস্তিহাযাহগ্রস্তা নারীর পবিত্রতা দেখা। | বর্ণনাকারী: আয়িশা (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩১): আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হায়েয দেখা দিলে সালাত ছেড়ে দাও আর হায়েযের সময় শেষ হয়ে গেলে রক্ত ধুয়ে নাও এবং সালাত আদায় কর।
অধ্যায়: হায়েজ (ঋতুস্রাব) | উপ-অধ্যায়: নিফাস অবস্থায় মৃত স্ত্রীলোকের জানাযার নামায ও তার পদ্ধতি। | বর্ণনাকারী: সামুরাহ ইব্‌নু জুনদুব (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩২): সামুরাহ ইব্‌নু জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ একজন প্রসূতি মহিলা মারা গেলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। সালাতে তিনি মহিলার দেহের মাঝ বরাবর দাঁড়িয়েছিলেন।
অধ্যায়: হায়েজ (ঋতুস্রাব) | উপ-অধ্যায়: পরিচ্ছদ নেই | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্‌নু শাদ্দাদ (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩৩): আবদুল্লাহ ইব্‌নু শাদ্দাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি আমার খালা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী মাইমূনা (রাঃ) হতে শুনেছি যে, তিনি হায়েয অবস্থায় সালাত আদায় করতেন না; তখন তিনি আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সালাতের সিজদার জায়গায় সোজাসুজি শুয়ে থাকতেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার চাটাইয়ে সালাত আদায় করতেন। সিজদা করার সময় তাঁর কাপড়ের অংশ আমার (মাইমূনাহ্‌র) শরীর স্পর্শ করতো।
অধ্যায়: তায়াম্মুম | উপ-অধ্যায়: পরিচ্ছদ নেই | বর্ণনাকারী: আয়িশা (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩৪): নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে কোন এক সফরে বের হয়েছিলাম যখন আমরা ‘বায়যা’ অথবা ‘যাতুল জায়শ’ নামক স্থানে পৌঁছলাম তখন একখানা হার হারিয়ে গেল। আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-সেখানে হারের খোঁজে থেমে গেলেন আর লোকেরাও তাঁর সঙ্গে থেমে গেলেন, অথচ তাঁরা পানির নিকটে ছিলেন না। তখন লোকেরা আবূ বক্‌র (রাঃ) এর নিকট এসে বললেনঃ ‘আয়িশা কী করেছেন আপনি কি দেখেন নি? তিনি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও লোকদের আটকিয়ে ফেলেছেন, অথচ তাঁরা পানির নিকটে নেই এবং তাঁদের সাথেও পানি নেই। আবূ বক্‌র (রাঃ) আমার নিকট আসলেন, তখন আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-আমার উরুর উপরে মাথা রেখে ঘুমিয়েছিলেন। আবূ বক্‌র (রাঃ) বললেনঃ তুমি আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর লোকদের আটকিয়ে ফেলেছ! অথচ আশেপাশে কোথাও পানি নেই। এবং তাঁদের সাথেও পানি নেই। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ আবূ বক্‌র আমাকে খুব তিরস্কার করলেন আর, আল্লাহ্‌র ইচ্ছা, তিনি যা খুশি তাই বললেন। তিনি আমার কোমরে আঘাত দিতে লাগলেন। আমার উরুর উপর আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাথা থাকায় আমি নড়তে পারছিলাম না। আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ভোরে উঠলেন, কিন্তু পানি ছিল না। তখন আল্লাহ্‌ তা’আলা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করলেন। অতঃপর সবাই তায়াম্মুম করে নিলেন। উসায়দ ইব্‌নু হুযায়্‌র (রাঃ) বললেনঃ হে আবূ বক্‌রেরপরিবারবর্গ! এটাই আপনাদের প্রথম বরকত নয়। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ তারপর আমি যে উটে ছিলাম তাকে দাঁড় করালে দেখি আমার হারখানা তার নীচে পড়ে আছে।
অধ্যায়: তায়াম্মুম | উপ-অধ্যায়: পরিচ্ছদ নেই | বর্ণনাকারী: জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩৫): জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-বলেনঃ আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পুর্বে কাউকেও দান করা হয়নি। (১) আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে যে, একমাস দূরত্বেও তা প্রতিফলিত হয়; (২) সমস্ত যমীন আমার জন্য পবিত্র ও সালাত আদায়ের উপযোগী করা হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের যে কোন লোক ওয়াক্ত হলেই সালাত আদায় করতে পারবে; (৩) আমার জন্য গানীমাতের মাল হালাল করে দেওয়া হয়েছে, যা আমার পূর্বে আর কারো জন্য হালাল করা হয়নি; (৪) আমাকে (ব্যাপক) শাফা’আতের অধিকার দেওয়া হয়েছে; (৫) সমস্ত নবী প্রেরিত হতেন কেবল তাঁদের সম্প্রদায়ের জন্য, আর আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে সমগ্র মানব জাতির জন্য।
অধ্যায়: তায়াম্মুম | উপ-অধ্যায়: পানি ও মাটি না পাওয়া গেলে। | বর্ণনাকারী: আয়িশা (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩৬): আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি একদা (তাঁর বোন) আসমা (রাঃ) এর হার ধার করে নিয়ে গিয়েছিলেন। (পথিমধ্যে) হারখানা হারিয়ে গেল। আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-সেটির অনুসন্ধানে লোক পাঠালেন। তিনি হারটি এমন সময় পেলেন, যখন তাঁদের সালাতের সময় হয়ে গিয়েছিল অথচ তাঁদের কাছে পানি ছিল না। তাঁরা সালাত আদায় করলেন। তারপর বিষয়টি তাঁরা আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বর্ণনা করেন। তখন আল্লাহ্‌ তা’আলা তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করেন। সেজন্য উসায়দ ইব্‌নু হুযায়র (রাঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) কে লক্ষ্য করে বললেনঃ আল্লাহ্‌ আপনাকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন। আল্লাহ্‌র কসম! আপনি যে কোন অপছন্দনীয় অবস্থার মুখোমুখী হয়েছেন, তাতেই আল্লাহ্‌ তা’আলা আপনার ও সমস্ত মুসলিমের জন্য মঙ্গল রেখেছেন।
অধ্যায়: তায়াম্মুম | উপ-অধ্যায়: মুকীম অবস্থায় পানি না পেলে এবং সালাত ছুটে যাওয়ার আশংকা থাকলে তায়াম্মুম করা। | বর্ণনাকারী: আবূ জুহায়ম (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩৭): আবূ জুহায়ম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদ্বীনার কাছে অবস্থিত ’বি’রে জামাল’ হতে আসছিলেন। পথিমধ্যে তাঁর সাথে এক ব্যক্তির সাক্ষাত হলো। লোকটি তাঁকে সালাম করলো। নবী (সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জওয়াব না দিয়ে দেয়ালের নিকট অগ্রসর হয়ে তাতে (হাত মেরে) নিজের চেহারা ও হস্তদ্বয় মাস্‌হ করে নিলেন, তারপর সালামের জবাব দিলেন।
অধ্যায়: তায়াম্মুম | উপ-অধ্যায়: তায়াম্মুমের জন্য মাটিতে হাত মারার পর উভয় হাতে ফুঁ দেয়া। | বর্ণনাকারী: আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩৮): আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি ‘উমর ইব্‌নুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট এসে জানতে চাইল : একবার আমার গোসলের দরকার হল অথচ আমি পানি পেলাম না। তখন ‘আম্মার ইব্‌নু ইয়াসার (রাঃ) ‘উমর ইব্‌নুল খাত্তাব (রাঃ)-কে বললেনঃ আপনার কি সেই ঘটনা মনে আছে যে, একদা আমরা দু’জন সফরে ছিলাম এবং দু’জনেরই গোসলের প্রয়োজন দেখা দিল। আপনি তো সালাত আদায় করলেন না। আর আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে সালাত আদায় করলাম। তারপর আমি ঘটনাটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার জন্য তো এতটুকুই যথেষ্ট ছিল- এ বলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’ হাত মাটিতে মারলেন এবং দু’হাতে ফুঁ দিয়ে তাঁর চেহারা ও উভয় হাত মাস্‌হ করলেন।
অধ্যায়: তায়াম্মুম | উপ-অধ্যায়: মুখমন্ডলে ও হস্তদ্বয়ে তায়াম্মুম করা। | বর্ণনাকারী: আম্মার (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩৯): আম্মার (রাঃ)-ও এ কথা (যা পূর্বের হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে তা) বর্ণনা করেছেন। শু’বাহ (রহঃ) নিজের হস্তদ্বয় মাটিতে মেরে মুখের নিকট নিলেন (ফুঁ দিলেন)। তারপর নিজের চেহারা ও উভয় হাত মাস্‌হ করলেন। নাযর (রহঃ) শু’বাহ (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন।
অধ্যায়: তায়াম্মুম | উপ-অধ্যায়: মুখমন্ডলে ও হস্তদ্বয়ে তায়াম্মুম করা। | বর্ণনাকারী: ইব্‌নু ’আবদুর রহমান ইব্‌নু আব্‌যা (রহঃ)
হাদিস নং (৩৪০): ইব্‌নু ’আবদুর রহমান ইব্‌নু আব্‌যা (রহঃ) তাঁর পিতা হতে থেকে বর্ণিতঃ তিনি (’আবদুর রহমান) ’উমর (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলেন, আর ’আম্মার (রাঃ) তাঁকে বলছিলেনঃ আমরা এক অভিযানে গিয়েছিলাম, আমরা উভয়ই জুনুবী হয়ে পড়লাম। উক্ত রিওয়ায়াতে হাত দু’টোতে ফুঁ দেয়ার বর্ণনা نَفَخَ فِيهِمَا এর স্থলে تَفَلَ فِيهِمَا‏ বলেছেন। উভয়ই সমার্থক।