তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: হায়েজ (ঋতুস্রাব) | উপ-অধ্যায়: হায়যকালীন সালাতের কাযা নেই। | বর্ণনাকারী: মু’আযাহ (রহঃ)
হাদিস নং (৩২১): মু’আযাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ জনৈকা মহিলা ’আয়িশা (রাঃ) কে বললেনঃ হায়েযকালীন কাযা সালাত পবিত্র হওয়ার পর আদায় করলে আমাদের জন্য চলবে কি-না? ’আয়িশা (রাঃ) বললেনঃ তুমি কি হারূরিয়্যাহ? (খারিজীদের একদল) [১] আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময়ে ঋতুবতী হতাম কিন্তু তিনি আমাদের সালাত কাযার নির্দেশ দিতেন না। অথবা তিনি [’আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ আমরা তা কাযা করতাম না।
অধ্যায়: হায়েজ (ঋতুস্রাব) | উপ-অধ্যায়: ঋতুমতী মহিলার সাথে হায়যের কাপড় পরিহিত অবস্থায় একত্রে শোয়া। | বর্ণনাকারী: উম্মু সালামা (রাঃ)
হাদিস নং (৩২২): উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে একই চাদরের নীচে শায়িত অবস্থায় আমার হায়েয দেখা দিল। তখন আমি চুপিসারে বেরিয়ে এসে হায়েযের কাপড় পরে নিলাম। আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে ডেকে নিয়ে তাঁর চাদরের নীচে স্থান দিলেন। বর্ণনাকারী যায়নাব (রহঃ) বলেনঃ আমাকে উম্মু সালামা (রাঃ) এও বলেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোযা রাখা অবস্থায় তাকে চুমু খেতেন। [উম্মে সালামা (রাঃ) আরও বলেন] আমি ও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই পাত্র হতে পানি নিয়ে জানাবাতের গোসল করতাম।
অধ্যায়: হায়েজ (ঋতুস্রাব) | উপ-অধ্যায়: হায়যের জন্যে স্বতন্ত্র কাপড় পরিধান করা। | বর্ণনাকারী: উম্মু সালামা (রাঃ)
হাদিস নং (৩২৩): উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ এক সময় আমি ও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই চাদরের নীচে শুয়েছিলাম। আমার হায়েয শুরু হলো। তখন আমি গোপনে বেরিয়ে গিয়ে হায়েযের কাপড় পরে নিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কি হায়েয আরম্ভ হয়েছে? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি আমাকে ডেকে নিলেন এবং আমি তার সঙ্গে একই চাদরের নীচে শুয়ে পড়লাম।
অধ্যায়: হায়েজ (ঋতুস্রাব) | উপ-অধ্যায়: ঋতুমতী মহিলাদের উভয় ঈদ ও মুসলিমদের দা‘ওয়াতী সমাবেশে উপস্থিত হওয়া এবং ঈদগাহ হতে দূরে অবস্থান করা। | বর্ণনাকারী: হাফসা (রাঃ)
হাদিস নং (৩২৪): হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমরা আমাদের যুবতীদের ঈদের সালাতে বের হতে নিষেধ করতাম। এক মহিলা বনূ কালাফের মহলে এসে পৌঁছলেন এবং তিনি তার বোন হতে বর্ণনা করলেন। তার ভগ্নীপতি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বারটি গায্‌ওয়াহ (বড় যুদ্ধ) –এ অংশ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেনঃ আমার বোনও তার সঙ্গে ছয়টি গায্‌ওয়ায় শরীক ছিলেন। সেই বোন বলেনঃ আমরা আহতদের পরিচর্যা ও অসুস্থদের সেবা করতাম। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমাদের কারো ওড়না না থাকার কারণে বের না হলে কোন অসুবিধা আছে কি? আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তার সাথীর ওড়না তাকে পরিয়ে দেবে, যাতে সে ভাল মজলিস ও মু’মিনদের দা’ওয়াতে শরীক হতে পারে। যখন উম্মু আতিয়্যা (রাঃ) আসলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ আপনি কি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এরূপ শুনেছেন? উত্তরে তিনি বললেনঃ আমার পিতা তাঁর জন্য কুরবান হোক। হ্যাঁ, তিনি এরূপ বলেছিলেন। নবীর কথা আলোচিত হলেই তিনি বলতেন, “আমার পিতা তার জন্য কুরবান হোক।” আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, যুবতী, পর্দানশীন ও ঋতুবতী মহিলারা বের হবে এবং ভাল স্থানে ও মু’মিনদের দা’ওয়াতে অংশ গ্রহণ করবে। অবশ্য ঋতুবতী মহিলা ঈদগাহ হতে দূরে থাকবে। হাফসা (রাঃ) বলেনঃ আমি জিজ্ঞেস করলাম ঋতুবতীও কি বেরুবে? তিনি বললেনঃ সে কি ‘আরাফাতে ও অমুক অমুক স্থানে উপস্থিত হবে না?
অধ্যায়: হায়েজ (ঋতুস্রাব) | উপ-অধ্যায়: একই মাসে তিন হায়য হলে। সম্ভাব্য হায়য ও গর্ভধারণের ব্যাপারে স্ত্রীলোকের কথা গ্রহণযোগ্য। | বর্ণনাকারী: আয়িশা (রাঃ)
হাদিস নং (৩২৫): আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ ফাতিমা বিনতু আবূ হুবায়শ (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আমার ইস্তিহাযা হয়েছে এবং পবিত্র হচ্ছি না। আমি কি সালাত পরিত্যাগ করবো? নবী (সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ না, এ হলো রগ থেকে বের হওয়া রক্ত। তবে এরূপ হওয়ার পূর্বে যতদিন হায়েয হতো সে কয়দিন সালাত অবশ্যই পরিত্যাগ করো। তারপর গোসল করে নিবে ও সালাত আদায় করবে।
অধ্যায়: হায়েজ (ঋতুস্রাব) | উপ-অধ্যায়: হায়যের দিনগুলো ছাড়া হলুদ এবং মেটে রং দেখা। | বর্ণনাকারী: উম্মু আতিয়্যা (রাঃ)
হাদিস নং (৩২৬): উম্মু আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমরা মেটে ও হলুদ রং হায়েযের মধ্যে গণ্য করতাম না।
অধ্যায়: হায়েজ (ঋতুস্রাব) | উপ-অধ্যায়: ইস্তিহাযার শিরা। | বর্ণনাকারী: আয়িশা (রাঃ)
হাদিস নং (৩২৭): আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ উম্মু হাবীবাহ (রাঃ) সাত বছর পর্যন্ত ইস্তিহাযায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি এ ব্যাপারে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তাঁকে গোসলের নির্দেশ দিলেন এবং বললেনঃ এ রগ থেকে বের হওয়া রক্ত। অতঃপর উম্মু হাবীবা (রাঃ) প্রতি সালাতের জন্য গোসল করতেন।
অধ্যায়: হায়েজ (ঋতুস্রাব) | উপ-অধ্যায়: ত্বওয়াফে যিয়ারাতের পর স্ত্রীলোকের হায়য শুরু হওয়া। | বর্ণনাকারী: আয়িশা (রাঃ)
হাদিস নং (৩২৮): আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! সফিয়্যাহ বিনতু হুয়াইয়ের হায়েয শুরু হয়েছে। তিনি বললেনঃ সে তো আমাদেরকে আটকিয়ে রাখবে। সে কি তোমাদের সঙ্গে তাওয়াফে-যিয়ারত করেনি? তাঁরা জবাব দিলেন, হ্যাঁ করেছেন। তিনি বললেনঃ তা হলে বের হও।
অধ্যায়: হায়েজ (ঋতুস্রাব) | উপ-অধ্যায়: ত্বওয়াফে যিয়ারাতের পর স্ত্রীলোকের হায়য শুরু হওয়া। | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্‌নু আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (৩২৯): আবদুল্লাহ ইব্‌নু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ (তাওয়াফে যিয়ারতের পর) মহিলার হায়েয হলে তার চলে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে।
অধ্যায়: হায়েজ (ঋতুস্রাব) | উপ-অধ্যায়: ত্বওয়াফে যিয়ারাতের পর স্ত্রীলোকের হায়য শুরু হওয়া। | বর্ণনাকারী: ইব্‌নু উমার (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩০): এর পূর্বে ইব্‌নু উমার (রাঃ) বলতেনঃ সে যেতে পারবে না। তারপর তাঁকে বলতে শুনেছি যে, সে যেতে পারে। কারণ, আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের জন্য (যাওয়ার) অনুমতি দিয়েছিলেন।