অধ্যায়: সৃষ্টির সূচনা |
উপ-অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণীঃ তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তিনিই পুনরায় তা সৃষ্টি করবেন এটা তার জন্য খুব সহজ। |
বর্ণনাকারী: ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)
হাদিস নং (৩১৯১):
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার উটনীটি দরজার সঙ্গে বেঁধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন তাঁর নিকট তামীম সম্প্রদায়ের কিছু লোক এল। তিনি বললেন, হে তামীম সম্প্রদায়! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। উত্তরে তারা বলল, আপনি তো আমাদের সুসংবাদ দিয়েছেন, এবার আমাদেরকে কিছু দান করুন। একথা দু’বার বলল। অতঃপর তাঁর নিকট ইয়ামানের কিছু লোক আসল। তিনি তাদের বললেন, হে ইয়ামানবাসী! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। কারণ বানূ তামীম তা গ্রহণ করেনি। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তা গ্রহণ করলাম। তারা আরো বলল, আমরা দ্বীন সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করার জন্য আপনার খেদমতে এসেছিলাম। তখন তিনি বললেন, একমাত্র আল্লাহই ছিলেন, আর তিনি ছাড়া আর কোন কিছুই ছিল না। তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে। অতঃপর তিনি লাওহে মাহফুজে সব কিছু লিপিবদ্ধ করলেন এবং আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন। এ সময় একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করল, হে ইবনু হুসাইন! আপনার উটনী পালিয়ে গেছে। তখন আমি এর খোঁজে চলে গেলাম। দেখলাম তা এত দূরে চলে গেছে যে, তার এবং আমার মধ্যে মরীচিকাময় ময়দান দূরত্ব হয়ে পড়েছে। আল্লাহর কসম! আমি তখন উটনীটিকে একেবারে ছেড়ে দেয়ার ইচ্ছা করলাম।
|
অধ্যায়: সৃষ্টির সূচনা |
উপ-অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণীঃ তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তিনিই পুনরায় তা সৃষ্টি করবেন এটা তার জন্য খুব সহজ। |
বর্ণনাকারী: তারিক ইবনু শিহাব (রহঃ)
হাদিস নং (৩১৯২):
তারিক ইবনু শিহাব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে দাঁড়ালেন। অতঃপর তিনি আমাদের সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে জ্ঞাত করলেন। অবশেষে তিনি জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসীর নিজ নিজ নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশ করার কথাও উল্লেখ করলেন। যে ব্যক্তি এ কথাটি স্মরণ রাখতে পেরেছে, সে স্মরণ রেখেছে আর যে ভুলে যাবার সে ভুলে গেছে।
|
অধ্যায়: সৃষ্টির সূচনা |
উপ-অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণীঃ তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তিনিই পুনরায় তা সৃষ্টি করবেন এটা তার জন্য খুব সহজ। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
হাদিস নং (৩১৯৩):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, আদম সন্তান আমাকে গালি দেয় অথচ আমাকে গালি দেয়া তার উচিত নয়। আর সে আমাকে মিথ্যা জানে অথচ তার উচিত নয়। আমাকে গালি দেয়া হচ্ছে, তার এ উক্তি যে, আমার সন্তান আছে। আর তার মিথ্যা মনে করা হচ্ছে, তার এ উক্তি, যেভাবে আল্লাহ আমাকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন, সেভাবে কখনও তিনি আমাকে আবার সৃষ্টি করবেন না।
|
অধ্যায়: সৃষ্টির সূচনা |
উপ-অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণীঃ তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তিনিই পুনরায় তা সৃষ্টি করবেন এটা তার জন্য খুব সহজ। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
হাদিস নং (৩১৯৪):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ যখন সৃষ্টির কাজ শেষ করলেন, তখন তিনি তাঁর কিতাব লাওহে মাহ্ফুজে লিখেন, যা আরশের উপর তাঁর নিকট আছে। নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার ক্রোধের উপর প্রবল।
|
অধ্যায়: সৃষ্টির সূচনা |
উপ-অধ্যায়: সাত যমীন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে। |
বর্ণনাকারী: আবূ সালামাহ্ ইবনু আবদুর রাহমান (রহঃ)
হাদিস নং (৩১৯৫):
আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদির রাহমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। (তিনি বলেন), কয়েকজন লোকের সঙ্গে একখন্ড ভূমি নিয়ে তাঁর ঝগড়া ছিল। ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট এসে তা জানালেন। তিনি বললেন, হে আবূ সালামাহ! জমা-জমির গোলমাল হতে দূরে থাক। কেননা, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে লোক এক বিঘত পরিমাণ অন্যের জমি অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করেছে, কিয়ামতের দিন সাত তবক যমীনের হার তার গলায় পরিয়ে দেয়া হবে।
|
অধ্যায়: সৃষ্টির সূচনা |
উপ-অধ্যায়: সাত যমীন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
হাদিস নং (৩১৯৬):
সালিম (রহ.)-এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে লোক অন্যায়ভাবে কারো ভূমির সামান্যতম অংশও আত্মসাৎ করবে, কিয়ামতের দিন সাত তবক যমীনের নীচে তাকে ধ্বসিয়ে দেয়া হবে।
|
অধ্যায়: সৃষ্টির সূচনা |
উপ-অধ্যায়: সাত যমীন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে। |
বর্ণনাকারী: আবূ বাকরা (রাঃ)
হাদিস নং (৩১৯৭):
আবূ বকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ যে দিন আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, সে দিন হতে সময় যেভাবে আবর্তিত হচ্ছিল আজও তা সেভাবে আবর্তিত হচ্ছে। বারো মাসে এক বছর। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। যুল-কা‘দাহ, যূল-হিজ্জাহ ও মুহাররাম। তিনটি মাস পরস্পর রয়েছে। আর একটি মাস হলো রজব-ই-মুযারা[1] যা জুমাদা ও শা‘বান মাসের মাঝে অবস্থিত।
|
অধ্যায়: সৃষ্টির সূচনা |
উপ-অধ্যায়: সাত যমীন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে। |
বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ)
হাদিস নং (৩১৯৮):
সা‘ঈদ ইবনু যায়িদ ইবনে ‘আমর ইবনে নুফাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত। ‘আরওয়া’ নামক এক মহিলা এক সাহাবীর বিরুদ্ধে মারওয়ানের নিকট তার ঐ পাওনার ব্যাপারে মামলা দায়ের করল, যা তার ধারণায় তিনি নষ্ট করেছেন। ব্যাপার শুনে সা‘ঈদ (রাঃ) বললেন, আমি কি তার সামান্য হকও নষ্ট করতে পারি? আমি তো সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জুলুম করে অন্যের এক বিঘত যমীনও আত্মসাৎ করে, কিয়ামতের দিন সাত তবক যমীনের শিকল তার গলায় পরিয়ে দেয়া হবে। ইবনু আবিয যিনাদ (রহ.) হিশাম (রহ.) থেকে, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, তিনি (হিশামের পিতা ‘উরওয়াহ) (রাঃ) বলেন, সা‘ঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ) আমাকে বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলাম (তখন তিনি এ হাদীস বর্ণনা করেন)।
|
অধ্যায়: সৃষ্টির সূচনা |
উপ-অধ্যায়: সূর্য ও চন্দ্রের অবস্থান। |
বর্ণনাকারী: আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)
হাদিস নং (৩১৯৯):
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য অস্ত যাবার সময় আবূ যার (রাঃ)-কে বললেন, তুমি কি জানো, সূর্য কোথায় যায়? আমি বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, তা যেতে যেতে আরশের নীচে গিয়ে সাজ্দাহয় পড়ে যায়। অতঃপর সে আবার উদিত হবার অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেয়া হয়। আর শীঘ্রই এমন সময় আসবে যে, সিজ্দা করবে কিন্তু তা কবূল করা হবে না এবং সে অনুমতি চাইবে কিন্তু তাকে অনুমতি দেয়া হবে না। তাকে বলা হবে, যে পথ দিয়ে আসলে ঐ পথেই ফিরে যাও। তখন সে পশ্চিম দিক হতে উদিত হয়— এটাই মর্ম হল মহান আল্লাহর বাণীরঃ ’’আর সূর্য নিজ গন্তব্যে (অথবা) কক্ষ পথে চলতে থাকে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।’’
|
অধ্যায়: সৃষ্টির সূচনা |
উপ-অধ্যায়: সূর্য ও চন্দ্রের অবস্থান। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
হাদিস নং (৩২০০):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন সূর্য ও চন্দ্র দু’টিকেই গুটিয়ে নেয়া হবে।
|