তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) | উপ-অধ্যায়: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ম, লাঠি, তরবারী, পেয়ালা ও মুহর এবং তাঁর পরের খলীফাগণ সে সব দ্রব্য হতে যা ব্যবহার করেছেন, আর যেগুলোর বণ্টনের কথা অনুল্লেখিত রয়েছে এবং তাঁর চুল, পাদুকা ও পাত্র নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর তাঁর সাহাবীগণ ও অন্যরা যাতে শরীক ছিলেন। | বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ (রহঃ)
হাদিস নং (৩১১১): ইবনু হানাফিয়্যা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলী (রাঃ) যদি ‘উসমান (রাঃ)-এর সমালোচনা করতেন, তবে সেদিনই করতেন, যেদিন তাঁর নিকট কিছু লোক এসে ‘উসমান (রাঃ) কর্তৃক নিযুক্ত যাকাত আদায়কারী কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছিল। ‘আলী (রাঃ) আমাকে জানিয়েছেন, ‘উসমান (রাঃ)-এর নিকট যাও এবং তাঁকে সংবাদ দাও যে, এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফরমান। কাজেই আপনার কর্মচারীদের কাজ করার নির্দেশ দিন। তারা যেন সে অনুসারে কাজ করে। তা নিয়ে আমি তাঁর নিকট গেলাম। তখন তিনি বললেন, আমার এটির প্রয়োজন নেই। অতঃপর আমি তা নিয়ে ‘আলী (রাঃ)-এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে এ সম্পর্কে জ্ঞাত করি। তখন তিনি বললেন, এটি যেখান হতে নিয়েছ সেখানে রেখে দাও।
অধ্যায়: খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) | উপ-অধ্যায়: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ম, লাঠি, তরবারী, পেয়ালা ও মুহর এবং তাঁর পরের খলীফাগণ সে সব দ্রব্য হতে যা ব্যবহার করেছেন, আর যেগুলোর বণ্টনের কথা অনুল্লেখিত রয়েছে এবং তাঁর চুল, পাদুকা ও পাত্র নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর তাঁর সাহাবীগণ ও অন্যরা যাতে শরীক ছিলেন। | বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ (রহঃ)
হাদিস নং (৩১১২): ইবনু হনাফিয়্যাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে পাঠিয়ে বলেন, এ ফরমানটি নাও এবং এটি ‘উসমান (রাঃ)-এর নিকট নিয়ে যাও, এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদাকা সম্পর্কিত নির্দেশ দিয়েছেন।
অধ্যায়: খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) | উপ-অধ্যায়: আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে আকস্মিক প্রয়োজনাদি ও মিসকীনদের জন্য গানীমাতের এক পঞ্চমাংশ। | বর্ণনাকারী: আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)
হাদিস নং (৩১১৩): ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ফাতিমাহ (রাঃ) আটা পিষার কষ্টের কথা জানান। তখন তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কয়েকজন বন্দী আনা হয়েছে। ফাতিমাহ (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে একজন খাদিম চাইলেন। তিনি তাঁকে পেলেন না। তখন তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট তা উল্লেখ করেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলে ‘আয়িশাহ (রাঃ) তাঁর নিকট বিষয়টি বললেন। (রাবী বলেন) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এলেন। তখন আমরা শুয়ে পড়েছিলাম। আমরা উঠতে চাইলাম। তিনি বললেন, তোমরা নিজ নিজ জায়গায় থাক। আমি তাঁর পায়ের শীতলতা আমার বুকে অনুভব করলাম। তখন তিনি বললেন, ‘তোমরা যা চেয়েছ, আমি কি তোমাদের তার চেয়ে উত্তম জিনিসের সন্ধান দিব না? যখন তোমরা বিছানায় যাবে, তখন চৌত্রিশ বার ‘আল্লাহু আকবার’ তেত্রিশবার ‘আল্হামদু লিল্লাহ’ এবং তেত্রিশবার ‘সুব্হানাল্লাহ’ বলবে, এটাই তোমাদের জন্য তার চেয়ে উত্তম, যা তোমরা চেয়েছ।’
অধ্যায়: খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) | উপ-অধ্যায়: আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘নিশ্চয় এক পঞ্চমাংশ আল্লাহর ও রসূলের’’ (আনফাল ৪১)। তা বণ্টনের অধিকার রসূলেরই। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি বণ্টনকারী ও সংরক্ষণকারী আর আল্লাহ তা‘আলাই প্রদান করেন। | বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
হাদিস নং (৩১১৪): জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের আনসারী এক ব্যক্তির একটি পুত্র জন্মে। সে তার নাম মুহাম্মাদ রাখার ইচ্ছা করল। মানসূর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসে শুবা বলেন, সে আনসারী বলল, আমি তাকে আমার ঘাড়ে তুলে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলাম। আর সুলাইমান (রহ.) বর্ণিত হাদীসে শুবা বলেন, সে আনসারী বলল, আমি তাকে আমার ঘাড়ে তুলে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলাম। আর সুলাইমান (রহ.) বর্ণিত হাদীসে রয়েছে যে, তার একটি পুত্র জন্মে। তখন সে তার নাম মুহাম্মাদ রাখার ইচ্ছা করে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা আমার নামে নাম রাখ। কিন্তু আমার কুনীয়াতের অনুরূপ কুনীয়াত রেখে না। আমাকে বণ্টনকারী করা হয়েছে। আমি তোমাদের মধ্যে বণ্টন করি।’ আর হুসাইন (রহ.) বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমি বণ্টনকারীরূপে প্রেরিত হয়েছি। আমি তোমাদের মধ্যে বণ্টন করি।’ আর ‘আমর (রাঃ) জাবির (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, সে ব্যক্তি তার ছেলের নাম কাসিম রাখতে চেয়েছিল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা আমার নামে নাম রাখ, আমার কুনীয়াতের ন্যায় কুনীয়াত রেখ না।’
অধ্যায়: খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) | উপ-অধ্যায়: আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘নিশ্চয় এক পঞ্চমাংশ আল্লাহর ও রসূলের’’ (আনফাল ৪১)। তা বণ্টনের অধিকার রসূলেরই। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি বণ্টনকারী ও সংরক্ষণকারী আর আল্লাহ তা‘আলাই প্রদান করেন। | বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ)
হাদিস নং (৩১১৫): জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ আল-আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে এক জনের পুত্র জন্মে। সে তার নাম রাখল কাসিম। তখন আনসারগণ বললেন, আমরা তোমাকে আবুল কাসিম কুনীয়াত ব্যবহার করতে দিব না এবং এর দ্বারা তোমার চক্ষু শীতল করব না। সে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার একটি পুত্র জন্মেছে। আমি তার নাম রেখেছি কাসিম। তখন আনসারগণ বললেন, আমরা তোমাকে আবুল কাসিম কুনীয়াত ব্যবহার করতে দিব না এবং এর দ্বারা তোমার চক্ষু শীতল করব না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আনসারগণ ঠিকই করেছে। তোমরা আমার নামে নাম রাখ, কিন্তু কুনীয়াতের মত কুনীয়াত ব্যবহার করো না। কেননা, আমি তো কাসিম (বণ্টনকারী)।’
অধ্যায়: খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) | উপ-অধ্যায়: আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘নিশ্চয় এক পঞ্চমাংশ আল্লাহর ও রসূলের’’ (আনফাল ৪১)। তা বণ্টনের অধিকার রসূলেরই। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি বণ্টনকারী ও সংরক্ষণকারী আর আল্লাহ তা‘আলাই প্রদান করেন। | বর্ণনাকারী: মু‘আবিয়াহ ইবন আবূ সুফিয়ান (রাঃ)
হাদিস নং (৩১১৬): মু‘আবিয়াহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন। আল্লাহই দানকারী আর আমি বণ্টনকারী। এ উম্মাত সর্বদা তাদের প্রতিপক্ষের উপর বিজয়ী থাকবে, আল্লাহর আদেশ আসা পর্যন্ত আর তারা বিজয়ী থাকবে।’
অধ্যায়: খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) | উপ-অধ্যায়: আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘নিশ্চয় এক পঞ্চমাংশ আল্লাহর ও রসূলের’’ (আনফাল ৪১)। তা বণ্টনের অধিকার রসূলেরই। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি বণ্টনকারী ও সংরক্ষণকারী আর আল্লাহ তা‘আলাই প্রদান করেন। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
হাদিস নং (৩১১৭): আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমি তোমাদের দানও করি না এবং তোমাদের বঞ্চিতও করি না। আমি তো মাত্র বণ্টনকারী, যেভাবে নির্দেশিত হই, সেভাবে ব্যয় করি।’
অধ্যায়: খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) | উপ-অধ্যায়: আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘নিশ্চয় এক পঞ্চমাংশ আল্লাহর ও রসূলের’’ (আনফাল ৪১)। তা বণ্টনের অধিকার রসূলেরই। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি বণ্টনকারী ও সংরক্ষণকারী আর আল্লাহ তা‘আলাই প্রদান করেন। | বর্ণনাকারী: খাওলাহ্ আনসারীয়া (রাঃ)
হাদিস নং (৩১১৮): খাওলাহ্ আনসারীয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, কিছু লোক আল্লাহর দেয়া সম্পদ অন্যায়ভাবে ব্যয় করে, কিয়ামতের দিন তাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত।’
অধ্যায়: খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) | উপ-অধ্যায়: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ তোমাদের জন্য গনীমতের মাল হালাল করা হয়েছে। | বর্ণনাকারী: উরওয়াহ বারিকী (রাঃ)
হাদিস নং (৩১১৯): ‘উরওয়াহ আল-বারেকী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘোড়ার কপালের উপরিভাগের কেশদামে আছে কল্যাণ, সাওয়াব ও গনীমত কিয়ামত অবধি।
অধ্যায়: খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) | উপ-অধ্যায়: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ তোমাদের জন্য গনীমতের মাল হালাল করা হয়েছে। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
হাদিস নং (৩১২০): আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল বলেছেন, যখন কিসরা ধ্বংস হয়ে যাবে, তারপরে আর কোন কিসরা হবে না। আর যখন কায়সার ধ্বংস হয়ে যাবে, অতঃপর আর কোন কায়সার হবে না। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, তোমরা অবশ্যই উভয় সাম্রাজ্যের ধন ভান্ডার আল্লাহর পথে ব্যয় করবে।