অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ তা‘আলার না-ফরমানি করলে প্রয়োজনে জিম্মী অথবা মুসলিম নারীর চুল দেখা এবং তাদেরকে বিবস্ত্র করা। |
বর্ণনাকারী: আবূ ‘আবদুর রাহমান (রহঃ)
হাদিস নং (৩০৮১):
আবূ ‘আবদুর রাহমান (রহ.) হতে বর্ণিত। আর তিনি ছিলেন ‘উসমান (রাঃ)-এর সমর্থক। তিনি ইবনু আতিয়্যাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যিনি ‘আলী (রাঃ)-এর সমর্থক ছিলেন, কোন্ বস্তু তোমাদের সাথী (আলী (রাঃ)-কে রক্তপাতে সাহস যুগিয়েছে, তা আমি জানি। আমি তাঁর নিকট শুনেছি, তিনি বলতেন, ‘রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এবং যুবাইর (ইবনু আওয়াম) (রাঃ)-কে প্রেরণ করেছেন, আর বলেছেন, তোমরা খাক বাগানের দিকে চলে যাও, সেখানে তোমরা একজন মহিলাকে পাবে, হাতিব তাকে একটি পত্র দিয়েছে।’ আমরা সে বাগানে পৌঁছলাম এবং মহিলাটিকে বললাম, পত্রখানি দাও, সে বলল, আমাকে কোন পত্র দেয়নি। তখন আমরা বললাম, ‘হয় তুমি পত্র বের করে দাও, নচেৎ আমরা তোমাকে বিবস্ত্র করব।’ তখন সে মহিলা তার কেশের ভাঁজ থেকে পত্রখানা বের করে দিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতিবকে ডেকে পাঠান। তখন সে বলল, ‘আমার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করবেন না। আল্লাহর কসম! আমি কুফরী করিনি, আমার হৃদয়ে ইসলামের প্রতি অনুরাগই বর্ধিত হয়েছে। আপনার সাহাবীগণের মধ্যে কেউই এমন নেই, মক্কা্য় যার সাহায্যকারী আত্মীয়-স্বজন না আছে। যদ্দবারা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর পরিবার-পরিজন ধন-সম্পদ রক্ষা করেছেন। আর আমার এমন কেউ নেই। তাই আমি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে চেয়েছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সত্যবাদী হিসেবে স্বীকার করে নিলেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, ‘লোকটিকে আমার হাতে ছেড়ে দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই, সে তো মুনাফিকী করেছে। তখন রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি জান কি? অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলা আহলে বাদার সম্পর্কে ভালভাবে জানেন এবং তাদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘তোমরা যেমন ইচ্ছা ‘আমল কর।’ একথাই তাঁকে (আলী (রাঃ) দুঃসাহসী করেছে।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: মুজাহিদদেরকে সাদর সম্ভাষণ জ্ঞাপন করা। |
বর্ণনাকারী: ইবন আবূ মুলায়কা (রহঃ)
হাদিস নং (৩০৮২):
ইবনু আবূ মুলাইকা (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইবনু যুবাইর (রাঃ), ইবনু জা‘ফর (রাঃ)-কে বললেন, তোমার কি মনে আছে, যখন আমি ও তুমি এবং ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মিলিত হয়েছিলাম? ইবনু জা‘ফর (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ, স্মরণ আছে। রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বাহনে তুলে নিলেন আর তোমাকে ছেড়ে আসলেন।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: মুজাহিদদেরকে সাদর সম্ভাষণ জ্ঞাপন করা। |
বর্ণনাকারী: সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ)
হাদিস নং (৩০৮৩):
সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অন্যান্য শিশুদের সাথে আমরাও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশে সানিয়্যাতুল বিদা পর্যন্ত গিয়েছিলাম।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: জিহাদ হতে ফিরে আসার কালে যা বলবে। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
হাদিস নং (৩০৮৪):
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদ হতে ফিরতেন, তখন তিনবার তাকবীর বলতেন। অতঃপর বলতেন, আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, গুনাহ হতে তাওবাকারী, তাঁরই ‘ইবাদাতকারী, প্রশংসাকারী, আমাদের প্রতিপালককে সিজ্দাকারী। আল্লাহ তাআলা তাঁর অঙ্গীকার সত্য প্রমাণিত করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই শত্রু দলকে পরাভূত করেছেন।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: জিহাদ হতে ফিরে আসার কালে যা বলবে। |
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (৩০৮৫):
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসফান হতে প্রত্যাবর্তনের সময় আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম, আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাওয়ারীর উপর আরোহী ছিলেন। তিনি সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রাঃ)-কে তাঁর পেছনে সাওয়ারীর উপর বসিয়েছিলেন। এ সময় উট পিছলিয়ে গেল এবং তাঁরা উভয়ে ছিটকে পড়েন। এ দেখে আবূ ত্বলহা (রাঃ) দ্রুত এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা‘আলা আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আগে মহিলার খোঁজ নাও। আবূ ত্বলহা (রাঃ) তখন একটা কাপড়ে নিজ মুখমণ্ডল ঢেকে তাঁর নিকট আসলেন এবং সে কাপড়টা দিয়ে তাকে ঢেকে দিলেন। অতঃপর তাঁদের দু’জনের জন্য সাওয়ারীকে ঠিক করলেন। তাঁরা উভয়ে আরোহণ করলেন, আর আমরা সবাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চারপাশে বেষ্টন করে চললাম। যখন আমরা মদিনার নিকটবর্তী হলাম, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএ দু‘আ পড়লেন آيِبُوْنَ تَائِبُوْنَ عَابِدُوْنَ لِرَبِّنَا حَامِدُوْنَ আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, আমরা তাওবাকারী, আমরা ‘ইবাদাতকারী, আমরা আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী। আর মদিনা্য় প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি এ দু‘আ পড়তে থাকলেন।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: জিহাদ হতে ফিরে আসার কালে যা বলবে। |
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (৩০৮৬):
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি ও আবূ ত্বলহা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে চলছিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাফিয়্যাহ (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি তাঁকে নিজ সাওয়ারীতে তাঁর পেছনে বসিয়ে ছিলেন। পথিমধ্যে এক জায়গায় উটনীটির পা পিছলে গেল। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাফিয়্যাহ (রাঃ) ছিটকে পড়ে গেলেন। আর আবূ ত্বলহা (রাঃ) তার উট হতে তাড়াতাড়ি নেমে রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বললেন, ‘হে আল্লাহর নবী! আল্লাহ তা‘আলা আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। আপনার কি কোন আঘাত লেগেছে?’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘না। তবে তুমি মহিলাটির খোঁজ নাও।’ আবূ ত্বলহা (রাঃ) একখানা কাপড় দিয়ে মুখমণ্ডল ঢেকে তাঁর নিকট গেলেন আর সেই কাপড় দিয়ে তাঁকে ঢেকে দিলেন। তখন সাফিয়্যাহ (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন। অতঃপর তিনি আবূ ত্বলহা (রাঃ) তাঁদের উভয়ের জন্য সাওয়ারীটি উত্তমরূপে বাঁধলেন। আর তাঁরা উভয়ে (তার উপর) আরোহণ করে চলতে শুরু করেন। অবশেষে যখন তাঁরা মদিনার উপকন্ঠে পৌঁছলেন অথবা বর্ণনাকারী বলেন, যখন মদিনার নিকটবর্তী হলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু‘আ পড়লেন, ‘‘আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তাওবাকারী, ‘ইবাদাতকারী এবং আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী।’ আর মদিনা্য় প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি এ দু‘আ পড়তে থাকেন।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: সফর হতে প্রত্যাবর্তনের পর সালাত আদায় করা। |
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
হাদিস নং (৩০৮৭):
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা যখন মদিনা্য় উপস্থিত হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, ‘মসজিদে প্রবেশ কর এবং দু’ রাক‘আত সালাত আদায় কর।’
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: সফর হতে প্রত্যাবর্তনের পর সালাত আদায় করা। |
বর্ণনাকারী: কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (৩০৮৮):
কা’ব (ইবনু মালিক) (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন চাশতের সময় সফর হতে ফিরতেন, তখন মসজিদে প্রবেশ করে বসার পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে নিতেন।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: সফর হতে ফিরে খাদ্য গ্রহণ প্রসঙ্গে আর (‘আবদুল্লাহ) ইব্নু ‘উমার (রাঃ) আগত মেহমানের সম্মানে সওম পালন করতেন না। |
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
হাদিস নং (৩০৮৯):
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনা্য় ফিরতেন, তখন তিনি একটি উট অথবা একটি গাভী যবেহ করতেন। আর মু‘আয (রাঃ)....জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, [জাবির (রাঃ) বলেন] আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট হতে এক উট দু’ উকিয়া ও একটি দিরহাম কিংবা দু’ দিরহাম দ্বারা কিনে নেন এবং তিনি যখন সিরার নামক স্থানে পৌঁছেন, তখন একটি গাভী যবেহ করার নির্দেশ দেন। অতঃপর তা যবেহ করা হয় এবং সকলে তার গোশ্ত আহার করে। আর যখন তিনি মদিনা্য় উপস্থিত হলেন তখন আমাকে মসজিদে প্রবেশ করে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতে আদেশ করলেন এবং আমাকে উটের মূল্য পরিশোধ করে দিলেন।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: সফর হতে ফিরে খাদ্য গ্রহণ প্রসঙ্গে আর (‘আবদুল্লাহ) ইব্নু ‘উমার (রাঃ) আগত মেহমানের সম্মানে সওম পালন করতেন না। |
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
হাদিস নং (৩০৯০):
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক সফর হতে ফিরে এলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে নাও।’ সিরার হচ্ছে মদিনার সন্নিকটে একটি স্থানের নাম।
|