অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: ঘরদোর ও খেজুর বাগ পুড়িয়ে দেয়া। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (৩০২১):
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী নাযীরের খেজুর বাগান জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: নিদ্রিত মুশরিককে হত্যা করা। |
বর্ণনাকারী: বারআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ)
হাদিস নং (৩০২২):
বারআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের একটি দল আবূ রাফি‘ ইয়াহূদীকে হত্যা করার জন্য প্রেরণ করেন। তাঁদের মধ্য থেকে একজন এগিয়ে গিয়ে ইয়াহূদীদের দূর্গে প্রবেশ করল। তিনি বলেন, অতঃপর আমি তাদের পশুর আস্তাবলে প্রবেশ করলাম। অতঃপর তারা দূর্গের দরজা বন্ধ করে দিল। তারা তাদের একটি গাধা হারিয়ে ফেলেছিল এবং তার খোঁজে তারা বেরিয়ে পড়ে। আমিও তাদের সঙ্গে বেরিয়ে গেলাম। তাদেরকে আমি জানাতে চেয়েছিলাম যে, আমি তাদের সঙ্গে গাধার খোঁজ করছি। অবশেষে তারা গাধাটি পেল। তখন তারা দূর্গে প্রবেশ করে এবং আমিও প্রবেশ করলাম। রাতে তারা দুর্গের দরজা বন্ধ করে দিল। আর তারা চাবিগুলো একটি কুলুঙ্গীর মধ্যে রাখল। আমি তা দেখতে পেলাম। যখন তারা ঘুমিয়ে পড়ল, আমি চাবিগুলো নিয়ে নিলাম এবং দূর্গের দরজা খুললাম। অতঃপর আমি আবূ রাফি‘র নিকট পৌঁছলাম এবং বললাম, হে আবূ রাফে! সে আমার ডাকে সাড়া দিল। তখন আমি আওয়াজের প্রতি লক্ষ্য করে তরবারীর আঘাত হানলাম, অমনি সে চিৎকার দিয়ে উঠল। আমি বেরিয়ে এলাম। আমি আবার প্রবেশ করলাম, যেন আমি তার সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছি। আর আমি আমার গলার স্বর পরিবর্তন করে বললাম, হে আবূ রাফি‘! সে বলল, তোমার কী হল, তোমার মা ধ্বংস হোক। আমি বললাম, তোমার কী অবস্থা? সে বলল, আমি জানি না, কে বা কারা আমার এখানে এসেছিল এবং আমাকে আঘাত করেছে। রাবী বলেন, অতঃপর আমি আমার তরবারী তার পেটের উপর রেখে সব শক্তি দিয়ে চেপে ধরলাম, ফলে তার হাড় পর্যন্ত ঠেকার আওয়াজ হল। অতঃপর আমি ভীত-শংকিত অবস্থায় বের হয়ে এলাম। আমি অবতরণের উদ্দেশ্যে তাদের সিঁড়ির নিকট এলাম। যখন আমি পড়ে গেলাম, তখন এতে আমার পায়ে আঘাত লাগল। আমি আমার সাথীদের সঙ্গে এসে মিলিত হলাম। আমি তাদেরকে বললাম, আমি এখান হতে ততক্ষণ পর্যন্ত যাব না, যতক্ষণ না আমি মৃত্যুর সংবাদ প্রচারকারিণীর আওয়াজ শুনতে পাই। হিজাযবাসী বণিক আবূ রাফি‘র মৃত্যুর ঘোষণা না শোনা পর্যন্ত আমি সে স্থান ত্যাগ করলাম না। তিনি বললেন, তখন আমি দাঁড়িয়ে গেলাম এবং আমার তখন কোন ব্যথাই ছিল না। অবশেষে আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছে তাঁকে খবর জানালাম।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: নিদ্রিত মুশরিককে হত্যা করা। |
বর্ণনাকারী: বারআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ)
হাদিস নং (৩০২৩):
বারআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারীদের একদলকে আবূ রাফি‘ ইয়াহূদীর নিকট প্রেরণ করেন। তখন ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আতীক (রাঃ) রাত্রিকালে তার ঘরে ঢুকে তাকে হত্যা করে যখন সে ঘুমিয়ে ছিল।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: শত্রুর মুখোমুখী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করো না। |
বর্ণনাকারী: সালিম আবূন নাযর (রহঃ)
হাদিস নং (৩০২৪):
‘উমার ইবনু ‘উবাইদুল্লাহর আযাদকৃত গোলাম আবুন নাযার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার ইবনু ‘উবাইদুল্লাহর লেখক ছিলাম। তিনি বলেন, তাঁর নিকট ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ ‘আওফাহ (রাঃ) একখানি পত্র লিখেন, যখন তিনি হারুরিয়ার দিকে অভিযানে বের হন। আমি পত্রটি পাঠ করলাম— তাতে লেখা ছিল যে, শত্রুর সঙ্গে কোন এক মুখোমুখী যুদ্ধে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঢলে যাওয়া অবধি অপেক্ষা করলেন। অতঃপর তিনি তাঁর সাহাবীদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিলেন, ‘হে লোক সকল! তোমরা শত্রুর সঙ্গে মুকাবিলা করার কামনা করবে না এবং আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট নিরাপত্তার দু‘আ করবে। অতঃপর যখন তোমরা শত্রুর সামনা-সামনি হবে তখন তোমরা ধৈর্যধারণ করবে। জেনে রাখবে, জান্নাত তরবারির ছায়ায় অবস্থিত।’ অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আ করলেন, ‘হে আল্লাহ্! কুরআন অবতীর্ণকারী, মেঘমালা চালনাকারী, সৈন্য দলকে পরাভূতকারী, আপনি কাফিরদেরকে পরাস্ত করুন এবং আমাদেরকে তাদের উপর বিজয় দান করুন।’
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: শত্রুর মুখোমুখী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করো না। |
বর্ণনাকারী: মূসা ইবনু ‘উকবাহ (রহ.)
হাদিস নং (৩০২৫):
মূসা ইবনু ‘উকবাহ (রহ.) বলেন, সালিম আবুন নযর আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ‘উমার ইবনু ‘উবাইদুল্লাহর লেখক ছিলাম। তখন তার নিকট ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ ‘আওফাহ (রাঃ)-এর একখানা পত্র পৌঁছল এ মর্মে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা শত্রুর মুখোমুখী হওয়ার কামনা করবে না।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: শত্রুর মুখোমুখী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করো না। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (৩০২৬):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা শত্রুর মুখোমুখী হবার ব্যাপারে ইচ্ছা পোষণ করবে না। আর যখন তোমরা তাদের মুখোমুখী হবে তখন ধৈর্য অবলম্বন করবে।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: যুদ্ধ হল কৌশল। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (৩০২৭):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিসরা ধ্বংস হবে, অতঃপর আর কিসরা হবে না। আর কায়সার অবশ্যই ধ্বংস হবে, অতঃপর আর কায়সার হবে না এবং এটা নিশ্চিত যে, তাদের ধনভান্ডার আল্লাহর পথে বণ্টিত হবে।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: যুদ্ধ হল কৌশল। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
হাদিস নং (৩০২৮):
আর তিনি যুদ্ধকে কৌশল নামে অভিহিত করেন।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: যুদ্ধ হল কৌশল। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (৩০২৯):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধকে কৌশল নামে অভিহিত করেছেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (রহ.) বলেন, আবূ বকর হচ্ছেন বূর ইবনু আসরাম।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: যুদ্ধ হল কৌশল। |
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (৩০৩০):
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যুদ্ধ হচ্ছে কৌশল।
|