অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: জানাবাতের অপবিত্রতা বা অন্য কিছু ধোয়ার পর যদি ভেজা চিহ্ন রয়ে যায়। |
বর্ণনাকারী: আমর ইবনু মায়মূন (রহ.)
হাদিস নং (২৩১):
আমর ইবনু মায়মূন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কাপড়ে জানাবাতের অপবিত্রতা লাগা সম্পর্কে আমি সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ ’আয়িশাহ (রাযি.) বলেছেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় হতে তা ধুয়ে ফেলতাম। অতঃপর তিনি সালাতে বেরিয়ে যেতেন আর তাতে পানি দিয়ে ধোয়ার চিহ্ন অবশিষ্ট থাকত।
|
অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: জানাবাতের অপবিত্রতা বা অন্য কিছু ধোয়ার পর যদি ভেজা চিহ্ন রয়ে যায়। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাযি.)
হাদিস নং (২৩২):
আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাপড় হতে বীর্য ধুয়ে ফেলতেন। ‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেনঃ তারপর আমি তাতে পানির একটি বা কয়েকটি দাগ দেখতে পেতাম।
|
অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: উট, চতুষ্পদ জন্তু ও ভেড়ার পেশাব এবং ভেড়ার খোঁয়াড় প্রসঙ্গে। |
বর্ণনাকারী: আনাস (রাযি.)
হাদিস নং (২৩৩):
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ’উকল বা ’উরাইনাহ গোত্রের কিছু লোক (ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশে) মদিনা্য় এলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের (সদকার) উটের নিকট যাবার এবং ওর পেশাব ও দুধ পান করার নির্দেশ দিলেন। তারা সেখানে চলে গেল। অতঃপর তারা সুস্থ হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রাখালকে হত্যা করল এবং উটগুলো তাড়িয়ে নিয়ে গেল। এ সংবাদ দিনের প্রথম ভাগেই (তাঁর নিকট) এসে পৌঁছল। তিনি তাদের পশ্চাদ্ধাবন করার জন্য লোক পাঠালেন। বেলা বাড়লে তাদেরকে পাকড়াও করে আনা হল। অতঃপর তাঁর আদেশে তাদের হাত পা কেটে দেয়া হল। উত্তপ্ত শলাকা দিয়ে তাদের চোখ ফুটিয়ে দেয়া হল এবং গরম পাথুরে ভূমিতে তাদের নিক্ষেপ করা হল। তারা পানি চাইছিল, কিন্তু তাদেরকে পানি দেয়া হয়নি।
আবূ কিলাবাহ (রহ.) বলেন, এরা চুরি করেছিল, হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল, ঈমান আনার পর কুফরী করেছিল এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল।
|
অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: উট, চতুষ্পদ জন্তু ও ভেড়ার পেশাব এবং ভেড়ার খোঁয়াড় প্রসঙ্গে। |
বর্ণনাকারী: আনাস (রাযি.)
হাদিস নং (২৩৪):
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মসজিদে নাবাবী নির্মিত হবার পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভেড়ার খোঁয়াড়ে সালাত আদায় করতেন।
|
অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: ঘি এবং পানিতে নাজাসাত হতে যা পতিত হয়। |
বর্ণনাকারী: মাইমূনাহ (রাযি.)
হাদিস নং (২৩৫):
মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ’ঘি’য়ে পতিত ইঁদুর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ ’ইঁদুরটি এবং তার আশ পাশ হতে ফেলে দাও এবং তোমাদের অবশিষ্ট ঘি খাও।
|
অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: ঘি এবং পানিতে নাজাসাত হতে যা পতিত হয়। |
বর্ণনাকারী: মাইমূনাহ (রাযি.)
হাদিস নং (২৩৬):
মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ’ঘি’র মধ্যে ইঁদুর পড়ে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেনঃ তা ও তার আশপাশ হতে ফেলে দাও।
|
অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: ঘি এবং পানিতে নাজাসাত হতে যা পতিত হয়। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৩৭):
আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাস্তায় মুসলিমদের যে যখম হয়, কিয়ামতের দিন তার প্রতিটি যখম আঘাতকালীন সময়ে যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থাতেই থাকবে। রক্ত ছুটে বের হতে থাকবে। তার রং হবে রক্তের রং কিন্তু গন্ধ হবে মিশকের মত।
|
অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: আবদ্ধ পানিতে পেশাব করা। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৩৮):
আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেন যে, আমরা শেষে আগমনকারী এবং (ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে) অগ্রবর্তী।
|
অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: আবদ্ধ পানিতে পেশাব করা। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৩৯):
এ সনদেই তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন স্থির- যা প্রবাহিত নয় এমন পানিতে কখনো পেশাব না করে। (সম্ভবত) পরে সে আবার তাতে গোসল করবে।
|
অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: মুসল্লীর পিঠের উপর ময়লা বা মৃত জন্তু ফেললে তার সালাত বাতিল হবে না। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.)
হাদিস নং (২৪০):
আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদারত অবস্থায় ছিলেন। অন্য সূত্রে আহমাদ ইবনু ’উসমান (রহ.).....’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.) বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা বায়তুল্লাহর পাশে সালাত আদায় করছিলেন এবং সেখানে আবূ জাহাল ও তার সাথীরা বসা ছিল। এমন সময় তাদের একজন অন্যজনকে বলে উঠল ’তোমাদের মধ্যে কে অমুক গোত্রের উটনীর নাড়িভুঁড়ি এনে মুহাম্মাদ যখন সিজদা্ করেন তখন তার পিঠের উপর চাপিয়ে দিতে পারে’? তখন গোত্রের বড় পাষন্ড (’উকবাহ) তাড়াতাড়ি গিয়ে তা নিয়ে এল এবং তাঁর প্রতি লক্ষ্য রাখল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা্য় গেলেন, তখন সে তাঁর পিঠের উপর দুই কাঁধের মাঝখানে তা রেখে দিল। ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.) বলেন, আমি (এ দৃশ্য) দেখছিলাম কিন্তু আমার কিছু করার ছিল না। হায়! আমার যদি বাধা দেবার শক্তি থাকত! তিনি বলেন, তারা হাসতে লাগল এবং একে অন্যের উপর লুটোপুটি খেতে লাগল। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সিজদা্য় থাকলেন, মাথা উঠালেন না। অবশেষে ফাতিমাহ (রাযি.) এসে সেটি তাঁর পিঠের উপর হতে ফেলে দিলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা উঠিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি কুরায়শকে ধ্বংস করুন। এরূপ তিনবার বললেন। তিনি যখন তাদের বদ দু’আ করেন তখন তা তাদের অন্তরে ভয় জাগিয়ে তুলল। বর্ণনাকারী বলেন, তারা জানত যে, এ শহরে দু’আ কবূল হয়। অতঃপর তিনি নাম ধরে বললেনঃ হে আল্লাহ! আবূ জাহালকে ধ্বংস করুন এবং ’উতবাহ ইবনু রবী’আহ, শায়বাহ ইবনু রবী’আ, ওয়ালীদ ইবনু ’উতবাহ, উমাইয়াহ বিন খালাফ ও ’উকবাহ ইবনু আবী মু’আইতকে ধ্বংস করুন। রাবী বলেন, তিনি সপ্তম ব্যক্তির নামও বলেছিলেন কিন্তু তিনি স্মরণ রাখতে পারেননি। ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.) বলেনঃ সেই সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের নাম উচ্চারণ করেছিলেন, তাদের আমি বাদারের কূপের মধ্যে নিহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি।
|