অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: পবিত্রতা অর্জনের জন্য কারো সঙ্গে পানি নিয়ে যাওয়া। |
বর্ণনাকারী: আনাস (রাযি.)
হাদিস নং (১৫১):
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হতেন তখন আমি এবং আমাদের অন্য একটি ছেলে তাঁর পিছনে পানির পাত্র নিয়ে যেতাম।
|
অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: ইস্তিন্জার জন্য পানির সাথে (লৌহ ফলকযুক্ত) লাঠি নিয়ে যাওয়া। |
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রা.)
হাদিস নং (১৫২):
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পায়খানায় যেতেন তখন আমি এবং একটি ছেলে পানির পাত্র এবং ‘আনাযা’ নিয়ে যেতাম। তিনি পানি দ্বারা শৌচকার্য করতেন।
|
অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: ডান হাতে শৌচকার্য করা নিষেধ। |
বর্ণনাকারী: আবূ ক্বাতাদাহ (রাযি.)
হাদিস নং (১৫৩):
আবূ ক্বাতাদাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যখন পান করে, তখন সে যেন পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস না ছাড়ে। আর যখন শৌচাগারে যায় তখন তার পুরুষাঙ্গ যেন ডান হাত দিয়ে স্পর্শ না করে এবং ডান হাত দিয়ে যেন শৌচকার্য না করে।
|
অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: প্রস্রাব করার সময় ডান হাতে পুরুষাঙ্গ ধরবে না। |
বর্ণনাকারী: আবূ ক্বাতাদাহ (রাযি.)
হাদিস নং (১৫৪):
আবূ ক্বাতাদাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন পেশাব করে তখন সে যেন কখনো ডান হাত দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ না ধরে এবং ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য না করে এবং পান করার সময় যেন পাত্রের মধ্যে শ্বাস না ছাড়ে।
|
অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: পাথর দিয়ে ইস্তিন্জা করা। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
হাদিস নং (১৫৫):
আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হলে আমি তাঁর অনুসরণ করলাম। আর তিনি এদিক-ওদিক চাইতেন না। যখন আমি তাঁর নিকটবর্তী হলাম তখন তিনি আমাকে বললেনঃ ‘আমাকে কিছু পাথর কুড়িয়ে দাও, আমি তা দিয়ে শৌচকার্য সারব’ (বর্ণনাকারী বলেন), বা এ ধরনের কোন কথা বললেন, আর আমার জন্য হাড্ডি বা গোবর আনবে না।’ তখন আমি আমার কাপড়ের কোচায় করে কয়েকটি পাথর এনে তাঁর পাশে রেখে আমি তাঁর নিকট হতে সরে গেলাম। তিনি প্রয়োজন মিটিয়ে সেগুলো কাজে লাগালেন।
|
অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: গোবর দ্বারা শৌচকার্য না করা। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৫৬):
আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা শৌচ কাজে যাবার সময় তিনটি পাথর কুড়িয়ে দিতে আমাকে নির্দেশ করলেন। তখন আমি দু’টি পাথর পেলাম এবং আরেকটি খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না। তাই একখন্ড শুকনো গোবর নিয়ে তাঁর নিকট গেলাম। তিনি পাথর দু’টি নিলেন এবং গোবর খন্ড ফেলে দিয়ে বললেন, এটা নোংরা।
ইব্রাহীম ইবনু ইউসুফ (রহ.), তার পিতা, আবূ ইসহাক (রহ.), ’আবদুর রহমান (রহ.)-এর সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেন।
|
অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: উযূর মধ্যে একবার করে ধৌত করা। |
বর্ণনাকারী: ইবনু আব্বাস (রাযি.)
হাদিস নং (১৫৭):
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক উযূতে একবার করে ধুয়েছেন।
|
অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: উযূতে দু’বার করে ধোয়া। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবন যায়দ (রাযি.)
হাদিস নং (১৫৮):
আবদুল্লাহ্ ইবন যায়দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূতে দু’বার করে ধুয়েছেন।’
|
অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: উযূতে তিনবার করে ধোয়া। |
বর্ণনাকারী: হুমরান (রহ.)
হাদিস নং (১৫৯):
হুমরান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘উসমান ইবনু আফফান (রাযি.)-কে দেখেছেন যে, তিনি পানির পাত্র আনিয়ে উভয় হাতের তালুতে তিনবার ঢেলে তা ধুয়ে নিলেন। অতঃপর ডান হাত পাত্রের মধ্যে ঢুকালেন। তারপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর তাঁর মুখমন্ডল তিনবার ধুয়ে এবং দু’হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন। অতঃপর মাথা মাসেহ করলেন। অতঃপর দুই পা টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধুলেন। পরে বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘যে ব্যক্তি আমার মত এ রকম উযূ করবে, অতঃপর দু’রাক‘আত সালাত আদায় করবে, যাতে দুনিয়ার কোন খেয়াল করবে না, তার পূর্বের গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হবে।
|
অধ্যায়: উযূ |
উপ-অধ্যায়: উযূতে তিনবার করে ধোয়া। |
বর্ণনাকারী: ইবনু শিহাব (রহ.)
হাদিস নং (১৬০):
ইবনু শিহাব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উরওয়াহ হুমরান থেকে বর্ণনা করেন, ’উসমান (রাযি.) উযূ করে বললেন, আমি তোমাদের নিকট একটি হাদীস পেশ করব। যদি একটি আয়াতে কারীমা না হত, তবে আমি তোমাদের নিকট এ হাদীস বলতাম না। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, যে কোন ব্যক্তি সুন্দর করে উযূ করবে এবং সালাত আদায় করবে, পরবর্তী সালাত আদায় করা পর্যন্ত তার মধ্যবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। ’উরওয়াহ (রহ.) বলেন, সে আয়াতটি হলঃ ’’আমি যে সব স্পষ্ট নিদর্শন অবতীর্ণ করেছি তা যারা গোপন করে....।’’ (সূরাহ্ বাক্বারাহঃ ১৫৯)
|